মার্চে দুর্ঘটনা ও প্রাণহানিতে ঊর্ধ্বগতি, মোটরসাইকেল ঝুঁকিতে শীর্ষে
গত মার্চ মাসে দেশে মোট ৫৭৬টি সড়ক দুর্ঘটনায় ৫৩২ জন নিহত এবং ২ হাজার ২২১ জন আহত হয়েছেন। নিহতদের মধ্যে ৬৬ জন নারী ও ৯৮ জন শিশু রয়েছে। নিহতদের প্রায় ৩৮ দশমিক ৩৪ শতাংশই মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় প্রাণ হারিয়েছেন, যা এ খাতে সর্বোচ্চ ঝুঁকির ইঙ্গিত দেয়। রোড সেফটি ফাউন্ডেশনের বিশ্লেষণে দেখা গেছে, ফেব্রুয়ারিতে প্রতিদিন গড়ে ১৫ দশমিক ৪২ জন নিহত হলেও মার্চে তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১৭ দশমিক ১৬ জনে। ফলে মাসওয়ারি হিসাবে প্রাণহানি বেড়েছে প্রায় ১১ দশমিক ২৮ শতাংশ।

আঞ্চলিক সড়ক ও নির্দিষ্ট বিভাগে দুর্ঘটনার আধিক্য
রোড সেফটি ফাউন্ডেশন জানিয়েছে, মার্চ মাসে সবচেয়ে বেশি দুর্ঘটনা ঘটেছে আঞ্চলিক সড়কে, যেখানে ৫৭৬টির মধ্যে ২৬৪টি দুর্ঘটনা সংঘটিত হয়েছে। জাতীয় মহাসড়কে ১৭১টি, গ্রামীণ সড়কে ৭০টি এবং শহরের সড়কে ৬২টি দুর্ঘটনা ঘটেছে। বিভাগভিত্তিক হিসাবে ঢাকা বিভাগে সর্বোচ্চ ১২৬টি দুর্ঘটনায় ১৩৭ জন নিহত হয়েছেন, অন্যদিকে সিলেট বিভাগে সবচেয়ে কম ২৭টি দুর্ঘটনায় ২৬ জনের মৃত্যু হয়েছে। একই সময়ে ১৪টি নৌ দুর্ঘটনায় ১২ জন নিহত ও ৩ জন নিখোঁজ এবং ৪৮টি রেল দুর্ঘটনায় ৬৭ জন নিহত ও ২২৪ জন আহত হওয়ার তথ্যও প্রতিবেদনে উঠে এসেছে।

অতিরিক্ত গতি ও ত্রুটিপূর্ণ ব্যবস্থাই বড় কারণ, প্রযুক্তি ব্যবহারের পরামর্শ
সংস্থাটির পর্যবেক্ষণে দেখা গেছে, অধিকাংশ দুর্ঘটনার পেছনে অতিরিক্ত গতি, ত্রুটিপূর্ণ যানবাহন ও সড়ক, চালকদের অদক্ষতা এবং অনিয়ন্ত্রিত কর্মঘণ্টা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। দুর্ঘটনায় জড়িত যানবাহনের মধ্যে ট্রাক ও পণ্যবাহী যানবাহনের অংশ ছিল প্রায় ২৪ দশমিক ৬০ শতাংশ, মোটরসাইকেল ২৪ দশমিক ২০ শতাংশ এবং থ্রি-হুইলার প্রায় ১৯ দশমিক ৮৪ শতাংশ। এসব পরিস্থিতি মোকাবিলায় মেয়াদোত্তীর্ণ যানবাহন প্রত্যাহার, দক্ষ চালক তৈরির উদ্যোগ বৃদ্ধি, আধুনিক নিরাপত্তা প্রযুক্তি ব্যবহার এবং জাতীয় সড়ক নিরাপত্তা কাউন্সিল পুনর্গঠনের মতো একাধিক সুপারিশ করেছে রোড সেফটি ফাউন্ডেশন।
