দিনের বেলায় অপহরণ ও নৃশংস নির্যাতন বগুড়া শহরের ব্যস্ততম ফতেহ আলী বাজার থেকে গত ২৮ মার্চ কাঁচামাল ব্যবসায়ী সমিতির নেতা আলাল শেখকে প্রকাশ্যে তুলে নিয়ে যায় একদল দুর্বৃত্ত। জেলা যুবদলের শ্রমবিষয়ক সম্পাদক শফিকুল ইসলামের নেতৃত্বে তাঁকে মোটরসাইকেলে করে শহরের উপকণ্ঠে একটি নির্জন বাঁশঝাড়ে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে হাতুড়ি দিয়ে পিটিয়ে হাত-পা ভেঙে দেওয়ার পাশাপাশি ধারালো অস্ত্র দিয়ে তাঁর হাত ও পায়ের রগ কেটে দেওয়া হয়। দীর্ঘ ছয় দিন ঢাকার একটি হাসপাতালে মৃত্যুর সাথে পাঞ্জা লড়ে আজ শুক্রবার ভোরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।

অভিযুক্ত নেতার বহিষ্কার ও আইনি পদক্ষেপ এই অমানবিক ঘটনার সাথে দলীয় নেতার নাম জড়িয়ে পড়ায় সাংগঠনিকভাবে কঠোর ব্যবস্থা নিয়েছে বগুড়া জেলা যুবদল। দলীয় শৃঙ্খলাভঙ্গ ও সংগঠনের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করার দায়ে অভিযুক্ত নেতা শফিকুল ইসলামকে পদ থেকে অব্যাহতি দিয়ে সাময়িকভাবে বহিষ্কার করা হয়েছে। এদিকে নিহতের বাবা সিদ্দিকুর রহমান বাদী হয়ে শফিকুলকে প্রধান আসামি করে ২৮ জনের বিরুদ্ধে অপহরণ ও হত্যাচেষ্টার মামলা করেছেন। ঘটনার পরপরই পুলিশ চার আসামিকে গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হলেও মূল অভিযুক্ত শফিকুল ইসলাম এখনো পলাতক রয়েছেন।
পুলিশি তদন্ত ও বর্তমান পরিস্থিতি পুলিশের প্রাথমিক তদন্তে উঠে এসেছে যে, পূর্বশত্রুতার জের ধরেই এই নৃশংস হামলার পরিকল্পনা করা হয়েছিল। সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা জানিয়েছেন, মামলাটি এখন হত্যা মামলায় রূপান্তরের প্রক্রিয়া চলছে এবং মরদেহ ময়নাতদন্ত শেষে পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হবে। নিহত আলাল শেখ সাবেক কাউন্সিলর আব্দুল মতিন সরকারের শ্যালক ছিলেন, যার ফলে এলাকায় বেশ চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী বাকি আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রেখেছে এবং এলাকায় বাড়তি নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হয়েছে।