উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতি ও সরকারি উদ্বেগ ইরানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ হামলা এবং পাল্টা জবাবে মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে শুরু হওয়া ড্রান-ক্ষেপণাস্ত্র হামলার প্রেক্ষাপটে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে বাংলাদেশ সরকার। শনিবার রাতে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক জরুরি বৈঠকে পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমান ও উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারা তেহরান মিশনের সঙ্গে পরিস্থিতি পর্যালোচনা করেন। আকাশসীমা সাময়িকভাবে বন্ধ থাকায় অনেক প্রবাসী কর্মী বিমানবন্দরে আটকা পড়েছেন, যা যাতায়াতে বড় ধরনের বিঘ্ন সৃষ্টি করেছে। উদ্ভূত এই সংকটে সরকার প্রবাসীদের জীবন ও কর্মসংস্থানের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিচ্ছে।

আটকে পড়া কর্মীদের সুরক্ষা ও সহযোগিতা বিদেশে গমনেচ্ছু এবং বর্তমানে আটকে পড়া বাংলাদেশি নাগরিকদের পরিস্থিতির উন্নতি হলে পুনরায় প্রবেশের সুযোগ দিতে সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর কাছে বিশেষ অনুরোধ জানিয়েছে বাংলাদেশ। ইতোমধ্যে বেশ কিছু দেশ এই বিষয়ে ইতিবাচক আশ্বাস প্রদান করেছে এবং বিভিন্ন বিমানবন্দরে অবস্থানরত কর্মীদের প্রয়োজনীয় সহায়তা দিতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ কাজ করছে। এছাড়া তেহরানে বাংলাদেশ মিশনের কূটনীতিক, কর্মকর্তা এবং সেখানে অধ্যয়নরত শিক্ষার্থীদের সার্বিক নিরাপত্তা ও সুরক্ষা নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় সকল কার্যক্রম দ্রুততার সঙ্গে শুরু করেছে সরকার।

শান্তি ও সার্বভৌমত্বের পক্ষে বাংলাদেশের অবস্থান সংঘাত কখনোই স্থায়ী সমাধান বয়ে আনে না—এই নীতিতে অটল থেকে বাংলাদেশ সব পক্ষকে সর্বোচ্চ সংযম প্রদর্শনের আহ্বান জানিয়েছে। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় স্পষ্ট করেছে যে, প্রতিটি দেশের সার্বভৌমত্ব ও ভৌগোলিক অখণ্ডতার প্রতি সম্মান প্রদর্শন এবং আলোচনার মাধ্যমেই এই সংকটের শান্তিপূর্ণ নিষ্পত্তি সম্ভব। আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের প্রতি শান্তি পুনঃপ্রতিষ্ঠার আহ্বান জানিয়ে বাংলাদেশ মধ্যপ্রাচ্যে স্থিতিশীলতা ও নিরাপত্তার পক্ষে নিজের দৃঢ় অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করেছে। সরকার আশা করে, সংলাপের মাধ্যমে শীঘ্রই ওই অঞ্চলে স্বাভাবিক পরিবেশ ফিরে আসবে।